Home

খেজুরবাগ বাল্যবন্ধু পরিবার

ঈদ আনন্দ ভ্রমণ ২০২২

উদ্দেশ্য – সিলেট মাজার,  ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর এবং জাফলং।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি  সিলট

দীর্ঘদিন কর্মব্যস্ততার পর ঈদুল আজহা পরবর্তী ছুটির সময়টাতে কিভাবে অল্প সময়ের মাঝে দূরে কোথাও হতে ঘুরে আসা যায় তা নিয়ে  নিজেদের মাঝে সেলিমের প্রস্তাবে ঈদের আগের দিন চাঁদ রাতে,  পলওয়েল সুপার মার্কেটের নিচে রাত আনুমানিক ২ঃ০০ মিনিটে বন্ধু রাজুর উস্কনিতে এবং উজ্জ্বল ও আরিফুল ইসলাম বাবুর সম্মতিতে,  বন্ধু মামুন,  রেজোয়ান, ইব্রাহিম, এর তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ও সহযোগিতায়, শাহ্আলম ও ব্যবসায়ী বন্ধু শাহীন সহ সকলের প্রিয় বন্ধু আব্দুল করিম এবং সদা হাস্যোজ্জ্বল আব্দুল কুদ্দুস সহ আমরা ১১ জন ঈদের ৩ দিন পর রাত ১২ টায় রওনা হলাম আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেটের উদ্দেশ্যে।

সকলে সকলের জন্য
ঢাকা সিলেট হাইওয়ে এর কোনও এক এলাকার মসজিদে ফজরের নামাজ আদায়ের পর আমরা সবাই।

পথিমধ্যে গাড়ির পেছনে সিটে বসে ঝাক্কি খেতে খেতে বন্ধু বাবুর চিৎকার চেঁচামেচিতে সবাই মোটামুটি দুঃখিত এবং কিছুটা আনন্দিত অবস্থায় যখন আমরা সিলেট পৌছলাম ততক্ষণে সকাল প্রয় ৭ঃ৩০ মিনিট।

বিখ্যাত পাঁচ ভাই রেস্তোরাঁতে কোনও রকম অতৃপ্তির সাথে খেয়ে ড্রাইভারের চালাকির কাছে পরাস্ত হয়ে চলে গেলাম প্রথমেই শাহ্পরাণ মাজারে। তখন থেকেই ড্রাইভারকে আমাদের সঙ্গী মনে না হয়ে বরং তাকে ধূর্ত প্রকৃতির লোক মনে হতে লাগলো।

পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্ট (সিলেট)

যাই হোক, অতঃপর হযরত শাহজালাল রহঃ এর মাজার ও কবর যিয়ারত করে রওনা হলাম ভোলাগঞ্জ সাদা পাথরের উদ্দেশ্যে। অসম্ভব সুন্দর রকমের ভালোলাগছিলো মালিনীছড়া চা-বাগানের মধ্যখানদিয়ে অতিক্রমের সময় টা।

মালিনীছড়া চা বাগান

যখন ভোলাগঞ্জের কাছাকাছি চলে এলাম দূর পাহাড়ের দৃশ্য যখন অবলোকিত হচ্ছিল সবাই তখন সৃষ্টির সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে স্রষ্টার প্রশংসা করছিলো। আর আমি যেনো উড়তে চাইছিলাম ঐ পাহাড়ের উপরে।

অতঃপর আমরা গাড়ি থেকে নামার পরই মনে হলো যেনো উত্তপ্ত বালুর মরুভূমির মাঝে পদার্পণ করলাম। কিছুক্ষণ পর ইঞ্জিন চালিত নৌকা ভাড়া নিয়ে পাহাড়ি নদীর বুক চিরে এগিয়ে চললাম সাদা পাথরের গন্থব্যে।

বোট থেকে নেমে যেনো পা আর সামনে এগুচ্ছে না। অনেক কষ্ট-ক্লেশ ও সংগ্রম করে যখন ভারতীয় সীমান্ত সংলগ্ন পাথুরে নদী স্বচ্ছ জলে পা ভেজালাম, মনে স্বর্গীয় প্রশান্তি অনুভূত হল।

পানিতে নমা মাত্রই যেন সবাই কৈশোরে ফিরে এলো। তারুণ্যের শেষবেলায় পৌঁছে গিয়েও এ সকল কচিখোকাদের মনে যে যৌবনের এত ঠেলা তা না দেখলে ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব হবেনা।

“টিকটকার মামুনকে তো খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না”

• • •

• • •